দত্তক আইন না থাকায় উত্তরাধিকার বঞ্চিত হচ্ছে দত্তক শিশুরা
আইন প্রণয়নে কমিশনের তাগিদ
দিদারুল আলম
দেশে শিশু দত্তক নেওয়ার ক্ষেত্রে কোন আইন নেই। ফলে সন্তানহীন দম্পতি আইনগতভাবে কোন শিশুকে দত্তক নিতে পারছে না। দত্তকের কোন আইনি কাঠামো না থাকায় এ নিয়ে জটিলতাও হচ্ছে। এমনকি নি:সন্তান দম্পতিদের সম্পত্তির অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছে। আইন কমিশন দেশে এ ধরনের একটি আইন প্রণয়নের বিষয়ে সরকারকে তাগাদা দিয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইন না থাকার কারণে নিঃসন্তান দম্পতি শিশু সন্তান পালক নিচ্ছেন এবং পালক সন্তানের পরিচয় গোপন করে নিজের সন্তান হিসেবে বড় করছেন।
আইন কমিশন সম্প্রতি দত্তক আইন প্রণয়নের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে একটি সুপারিশপত্র পাঠিয়েছে। জানা গেছে কমিশনের সুপারিশ বিবেচনায় নিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। আইন কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমাদের পারিবারিক আইনে দত্তকের বিধান অন্তর্ভুক্ত না থাকলেও অভিভাবকত্ব আইনে বিষয়টি রয়েছে। কিন্তু অভিভাবকত্ব এবং দত্তক এক নয়। অভিভাবকত্ব আইনের মাধ্যমে দত্তক ব্যবস্থা কিছুটা প্রচলিত হলেও মূলতঃ এই আইনের জটিলতার কারণে মানুষ এতে উত্সাহিত হয় না। এই আইনের জটিল দিকগুলো হলো এ ক্ষেত্রে যাকে প্রতিপালনের জন্য নেয়া হয় তার পিতামাতা হিসেবে অভিভাবকত্ব গ্রহণকারীদের পরিচয় দেয়া যায় না। অর্থাত্ সন্তানের অভিভাবক হিসেবে আদালত তাদের অনুমতি দিতে পারে, কিন্তু তার জন্মদানকারী পিতামাতার নাম অক্ষুণ্ন থাকবে। অভিভাবকত্ব আইনে অভিভাবকত্ব প্রাপ্তির বিষয়টি নিষ্পত্তি হলেও দত্তক নেয়ার কোন সুযোগ নেই। এ কারণে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে নিঃসন্তান দম্পতি দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের আইনের অগোচরে কিনে নেয়। অথবা দরিদ্র আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে সন্তান নিয়ে নিজের সন্তান হিসেবে লালন পালন করতে থাকে। তারপরেও আইন না থাকার কারণে এই পালিত সন্তান তার সম্পত্তির উত্তরাধিকার পায় না। এমনকি পালক পিতামাতার নামও আইনত গ্রহণ করতে পারে না।
প্রতিবেদনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দত্তক সংক্রান্ত আইনের বিভিন্ন দিকগুলো তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ইন্দোনেশিয়ায় মুসলিম আইনকে বিধিবদ্ধ করার সময় দত্তককে প্রচলিত আইনের আলোকে ভিন্ন রূপে গ্রহণ করা হয়েছে। এখানে দত্তক সন্তানকে বাধ্যতামূলকভাবে উইলের মাধ্যমে সম্পত্তি প্রদান করা যায়। অনুরূপভাবে দত্তক পিতামাতাও দত্তক সন্তানের সম্পত্তি থেকে অংশ পায়। ২০০১ সালে তুরস্কে সিভিল কোডের মাধ্যমে কিছু শর্ত যোগ করে দত্তক প্রথার স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। এখানে অবিবাহিত ব্যক্তির বয়স ৩০ বছর হলে সে দত্তক নিতে পারবে। অন্যদিকে কোন দম্পত্তিকে দত্তক নিতে হলে তাদেরকে যৌথভাবে দত্তক নিতে হবে এমন বিধান করা হয়েছে। এমনকি তিউনেসিয়ায় দত্তক সন্তানকে তার দত্তক পিতার নাম গ্রহণের অধিকার পর্যন্ত দেয়া হয়েছে। আলজেরিয়াতে শরীয়াহ্্ মতে দত্তক নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করা সত্ত্বেও আর্থিকভাবে সম্পন্ন লোক চুক্তিপত্রের মাধ্যমে আদালত বা নোটারি পাবলিকের সম্মুখে হলফনামার মাধ্যমে দত্তক নিতে পারে।
এসব দিক উল্লেখ করে কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ-শিশুদের বৈধভাবে দত্তক দেয়ার জন্য 'দ্য বাংলাদেশ অ্যাবানডোন্ড চিলড্রেন (স্পেশাল প্রভিশন্স) অর্ডার, ১৯৭২' নামে একটি আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। কিন্তু শিশু পাচার বা ধর্মান্তরিত করণের আশংকায় ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ সরকার এই আইনটি বাতিল করে। যদিও আইনটি বাতিল হওয়ার আগ পর্যন্ত বহু পরিত্যক্ত শিশুকে এই আইনের অধীন দত্তক দেয়া হয়েছে। তবে এটি বলা যায়, রাষ্ট্রীয় আইন প্রচলনের মাধ্যমে দত্তক দেয়া বা নেয়ার উদাহরণ এই বাংলাদেশেই সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশে পালক, দত্তক বা পোষ্যপুত্রের অনুরূপ দত্তকের বিষয়টি চালু আছে, তবে পালক সন্তান আইনত উত্তরাধিকারী না হওয়ায় তাকে সাধারণত দানপত্রের মাধ্যমে সম্পত্তি দেয়ার বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়।
আইন কমিশন সম্প্রতি দত্তক আইন প্রণয়নের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে একটি সুপারিশপত্র পাঠিয়েছে। জানা গেছে কমিশনের সুপারিশ বিবেচনায় নিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। আইন কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমাদের পারিবারিক আইনে দত্তকের বিধান অন্তর্ভুক্ত না থাকলেও অভিভাবকত্ব আইনে বিষয়টি রয়েছে। কিন্তু অভিভাবকত্ব এবং দত্তক এক নয়। অভিভাবকত্ব আইনের মাধ্যমে দত্তক ব্যবস্থা কিছুটা প্রচলিত হলেও মূলতঃ এই আইনের জটিলতার কারণে মানুষ এতে উত্সাহিত হয় না। এই আইনের জটিল দিকগুলো হলো এ ক্ষেত্রে যাকে প্রতিপালনের জন্য নেয়া হয় তার পিতামাতা হিসেবে অভিভাবকত্ব গ্রহণকারীদের পরিচয় দেয়া যায় না। অর্থাত্ সন্তানের অভিভাবক হিসেবে আদালত তাদের অনুমতি দিতে পারে, কিন্তু তার জন্মদানকারী পিতামাতার নাম অক্ষুণ্ন থাকবে। অভিভাবকত্ব আইনে অভিভাবকত্ব প্রাপ্তির বিষয়টি নিষ্পত্তি হলেও দত্তক নেয়ার কোন সুযোগ নেই। এ কারণে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে নিঃসন্তান দম্পতি দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের আইনের অগোচরে কিনে নেয়। অথবা দরিদ্র আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে সন্তান নিয়ে নিজের সন্তান হিসেবে লালন পালন করতে থাকে। তারপরেও আইন না থাকার কারণে এই পালিত সন্তান তার সম্পত্তির উত্তরাধিকার পায় না। এমনকি পালক পিতামাতার নামও আইনত গ্রহণ করতে পারে না।
প্রতিবেদনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দত্তক সংক্রান্ত আইনের বিভিন্ন দিকগুলো তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ইন্দোনেশিয়ায় মুসলিম আইনকে বিধিবদ্ধ করার সময় দত্তককে প্রচলিত আইনের আলোকে ভিন্ন রূপে গ্রহণ করা হয়েছে। এখানে দত্তক সন্তানকে বাধ্যতামূলকভাবে উইলের মাধ্যমে সম্পত্তি প্রদান করা যায়। অনুরূপভাবে দত্তক পিতামাতাও দত্তক সন্তানের সম্পত্তি থেকে অংশ পায়। ২০০১ সালে তুরস্কে সিভিল কোডের মাধ্যমে কিছু শর্ত যোগ করে দত্তক প্রথার স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। এখানে অবিবাহিত ব্যক্তির বয়স ৩০ বছর হলে সে দত্তক নিতে পারবে। অন্যদিকে কোন দম্পত্তিকে দত্তক নিতে হলে তাদেরকে যৌথভাবে দত্তক নিতে হবে এমন বিধান করা হয়েছে। এমনকি তিউনেসিয়ায় দত্তক সন্তানকে তার দত্তক পিতার নাম গ্রহণের অধিকার পর্যন্ত দেয়া হয়েছে। আলজেরিয়াতে শরীয়াহ্্ মতে দত্তক নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করা সত্ত্বেও আর্থিকভাবে সম্পন্ন লোক চুক্তিপত্রের মাধ্যমে আদালত বা নোটারি পাবলিকের সম্মুখে হলফনামার মাধ্যমে দত্তক নিতে পারে।
এসব দিক উল্লেখ করে কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ-শিশুদের বৈধভাবে দত্তক দেয়ার জন্য 'দ্য বাংলাদেশ অ্যাবানডোন্ড চিলড্রেন (স্পেশাল প্রভিশন্স) অর্ডার, ১৯৭২' নামে একটি আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। কিন্তু শিশু পাচার বা ধর্মান্তরিত করণের আশংকায় ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ সরকার এই আইনটি বাতিল করে। যদিও আইনটি বাতিল হওয়ার আগ পর্যন্ত বহু পরিত্যক্ত শিশুকে এই আইনের অধীন দত্তক দেয়া হয়েছে। তবে এটি বলা যায়, রাষ্ট্রীয় আইন প্রচলনের মাধ্যমে দত্তক দেয়া বা নেয়ার উদাহরণ এই বাংলাদেশেই সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশে পালক, দত্তক বা পোষ্যপুত্রের অনুরূপ দত্তকের বিষয়টি চালু আছে, তবে পালক সন্তান আইনত উত্তরাধিকারী না হওয়ায় তাকে সাধারণত দানপত্রের মাধ্যমে সম্পত্তি দেয়ার বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন